পন্য ডেলিভারীতে সমস্যা (২)

গত পর্বে আমরা ই-কমার্সে প্রোডাক্টস শিপিং করতে গিয়ে একজন উদ্যোক্তা কি ধরনের সমস্যায় পড়ে তার প্রথম অংশ আলোচনা করেছি। তাতে আমরা আলোচনা করেছি ডেলিভারী কোম্পানী বা শিপিং এজেন্ট ও তার লোকদের অসর্তকতা ও অদক্ষতার কারণে কি কি সমস্যা তৈরী হয়। আজ আমরা আলোচনা করবো কাস্টমারদের দিক থেকে এবং কাস্টমার সেজে যেসব প্রতারক প্রতারণা করার জন্য ওতপেতে থাকে তাদের দিক থেকে কি কি সমস্যা তৈরী হয়।

এখানে আমরা প্রথমে আলোচনা করব নিয়মিত সমস্যাগুলো নিয়ে। এগুলো আমরা এজন্য আলোচনা করব কারণ এগুলো প্রতিনিয়তই হচ্ছে। আগে বলেছি আমাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার কারণ যাতে করে উদ্যোক্তাগণ আগে থেকে এসব ব্যাপারে সতর্ক হতে পারে। 

১। অপূর্ণ ও ভুল ঠিকানা: কখনো কখনো কাস্টমার পূর্ণ ঠিকানা দিতে পারে না বা দেয়না। এটা আগেই খেয়াল করতে হবে। যাতে বাড়ী নাম্বার, রোড নাম্বার ও ফোন নাম্বার নির্ভুল হয় এবং কোনো দরকারী তথ্য বাদ না পড়ে।

২। সময় ও ঠিকানা পরিবর্তন করা: কিছু কিছু কাস্টমার তাদের ব্যক্তিগত কারণে ডেলিভারীর সময় ও ঠিকানা পরিবর্তন করে। ডেলিভারী সুপাইভাইজারকে এটা সমন্বয় করতে হবে। তবে এমন যেন না হয় একজনের ঠিকানা পরিবর্তন করতে গিয়ে অন্য কাস্টমারকে দেয়া সময়ের হেরফের হয়। ঠিকানার ক্ষেত্রে একই ব্যাপার প্রযোজ্য। এ ব্যাপারে একটা নীতিমাল থাকতে হবে। যেমন ঠিকানা পরিবর্তন হলে কয়টার মধ্যে করতে পারবে কতবার করতে পারবে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকা হলে সেটা কদিন পর ডেলিভারী হবে ইত্যাদি। 

৩। ডেলিভারীম্যানকে বসিয়ে রাখা: এটা কাস্টমারেরা না সব সময় বুঝে করে তা নয়। কখনো তারা বুঝে উঠতে পারে না। কি করা উচিত? এটা যেমন কাস্টমার না করে সেজন্য ডেলিভারীম্যানকে সচেতন হতে হবে। খুব বেশী দেরী হয়ে গেলে বিনয়ের সহিত ক্রেতাকে সেটা বলতে হবে। এছাড়া কোম্পানীর পেজে মাঝে মধ্যে এসব ব্যাপারে পোস্ট দিয়ে ক্রেতাকে সচেতন করে তুলতে হবে।

৪। প্যাক খুলে পন্য নিতে না চাওয়া বা গড়িমসি করা: এটা আসলে বিভিন্ন ইস্যুতে হতে পারে। হতে পারে তিনি যে কালারের পন্য চেয়েছেন সেটা পাননি। হতে পারে হাতে টাকা নেই বা তিনি মত পরিবর্তন করেছেন। এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা হলে কিভাবে ফেস করবে ডেলিভারী পার্সনদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়োজন আছে। 

অনিয়মিত সমস্যা:

অনিয়মিত সমস্যা যতই অনিয়মিত হোকনা কেন। যখন হয়ে যাবে তখন সেটা ঘোর বিপদ নিয়ে হাজির হতে পারে। তাই এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আসুন দেখি সেগুলো কি কি?

১। কাস্টমাররুপি প্রতারক: কিছু কিছু প্রতারক রয়েছে এরা কাস্টমার সেজে অর্ডার দিয়ে পরে বিভিন্ন রকমের বিপদ সৃষ্টি করে। কি কি বিপদ সৃষ্টি করতে পারে দেখুন

ক. এরা পন্য হাইজ্যাক করতে পারে। অথবা পন্য দিয়ে টাকা দিয়ে, সে টাকা হাইজ্যাক করতে পারে।

খ. এরা একটু আড়াল করে প্যাকের মাল বদলিয়ে। সঠিক মাল দেয়া হয়নি দাবী করে সঠিক পন্য দ্বিতীয়বার চাইতে পারে। অথবা টাকা মেরে দিতে পারে।

গ. এরা ডেলিভারীম্যানকে আটক রেখে মুক্তিপন দাবী করতে পারে। কৌশলে তার পকেটে ইয়াবা রেখে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার মালিকের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করতে পারে। 

ঘ. আপনার ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য অন্য পন্য প্যাকেটে দিয়ে সেটা পোস্ট আকারে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে আপনার ক্ষতি করতে পারে।

 

২। কাস্টমারের আচরণগত সমস্যা: আমরা ভালোমন্দ সব মানুষ এই সমাজে বাস করি। সবশ্রেণীর মানুষের মাঝে ভুল মানুষ থাকতে পারে। ভুল মানুষ বলছি এই কারণে সবসময় মানুষ অন্যায় বা খারাপ আচরণ বুঝে করে না। কখনো কখনো না বুঝেও করে। তাই খারাপ মানুষ না বলে ভুল মানুষ বলছি। কিছু ক্রেতা গালাগালি হুমকি ধমকি দেয় খুব ছোটাখাটো ব্যাপারে ডেলিভারীদেরম্যানদের কাছে আমি তাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। তাই বলব এগুলোর জন্য তাদের প্রশিক্ষণ এবং আচরণ শিক্ষা দিতে হবে। তারাও যেন অনুরুপ আচরণ না করে। আর খুব বেশী বদের হাড্ডি হলে তাকে ব্লাক লিস্ট করতে পারেন। কারণ একজনকে সামলাতে গিয়ে ৫জন কাস্টমার নষ্ট হতে পারে।

৩। পন্য নিয়ে সমস্যা: পন্যের রং ঠিক নাই। সাইজ যেটা চাইছি সেটা দেয় নাই। ২ নম্বর মাল দিছে। ইত্যাদি নানা অভিযোগ থাকতে পারে ক্রেতার। এগুলো কিভাবে ফেস করবে এ ব্যাপারে প্রশিক্ষনের কোনো বিকল্প নেই। আর সবচেয়ে ভালো হলো পন্যের মান প্যাকিং আগে থেকে নিশ্চিত করা এবং সেটা এমনভাবে হওয়া উচিত যেন ক্রেতার মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে। 

৪। বিশেষ পরিস্থিতি: এগুলো খুব কালেভদ্রে হয়। যেমন কাস্টমার নিজেই অনুরোধ করল ডেলিভারী ম্যানকে ঘরে প্রবেশ করার জন্য। আধঘন্টা পরে ফোন করে বললো তিনি তার মোবাইল ফোনটি পাচ্ছেন না। এসব পরিস্থিতি স্থান কাল ও পাত্র বিবেচনায় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। কিছু সতর্কতো থাকাই যায়। যেমন ডেলিভারী ম্যান যদি বাসায় প্রবেশ না করতো তাহলে এই সমস্যা তৈরীই হতো না।

তাহলে প্রিয় উদ্যোক্তা সতর্ক হোন সাবধান হোন সে অনুযায়ী কাজ করুন। সমস্যা আছে বলে পিছিয়ে যাবেন না। সমস্যার মধ্যে কাজ করতে পারাটাই একটা যোগ্যতা। অন্যকোনো লেখায় পেয়ে যাবেন আমি যখন এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছি তখন কিছু সমাধান বের করেছি সেগুলো আমি বিভিন্ন লেখায় তুলে ধরব। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top