প্রায়ােগিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সৃজনশীল বাজারজাতকরণ

প্রায়ােগিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সৃজনশীল বাজারজাতকরণকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় : 

ভার্জিন আইডিয়া

একটু আগে যে বিজ্ঞাপন কনসেপ্টির কথা বললাম, সম্ভবত এ ধরনের আইডিয়া প্রথমবার প্রয়ােগ করা হলাে। এভাবে যেসব ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং কৌশল বা বিজ্ঞাপন ধারণা ইতােপূর্বে কখনাে ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলাে ভার্জিন আইডিয়া। এ ধরনের আইডিয়া শুধু উঁচুমাত্রার ক্রিয়েটিভ লােকেরাই তৈরি করতে পারে। কখনাে কখনাে এ ধরনের নতুন আইডিয়া ক্লায়েন্টকে বােঝানাে কঠিন হয়ে যায় আবার কখনাে এর বাস্তব রূপায়ণ খুব চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায় এবং ভােক্তা সাধারণ বিষয়টি ধরতে পারবে কি-না সেটা বিবেচ্য থাকে। তবে এগুলােতে সফলতার হার ভালাে থাকে। আমাদের দেশের ভােক্তারা তুলনামূলক কম সচেতন বলে উঁচুমাত্রার বিজ্ঞাপন আইডিয়ার প্রয়ােগ এখানে কমই দেখা যায়।

মিক্স ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং 

মূলত এটাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় প্রয়ােগ সৃজনশীল বাজারজাতকরণের। এটা দুভাবে হয়ে থাকে। কখনাে একটা গতানুগতিক মার্কেটিং আইডিয়ার সাথে একটি ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং আইডিয়ার সংমিশ্রণ ঘটে। যেমন পহেলা বৈশাখে কোম্পানিগুলাে লিফলেটের পরিবর্তে বিজ্ঞাপনসহ একটি কাগজের হাতপাখা বিতরণ করে।

এছাড়া দুটি ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং আইডিয়ার সমম্বয়ে একটি ক্রিয়েটিভ আইডিয়া তৈরি করে। এই দুটিকে আমরা মিক্স ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং বলতে পারি।

মােডিফাইড ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং 

পুরােনাে বা প্রচলিত কোনাে আইডিয়াকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাকে মােডিফাইং ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং বলা যায়। কোনাে ব্যবহৃত ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং কনসেপ্টকে নতুনভাবে বা কিছুটা পরিবর্তন করে প্রয়ােগ করা হলে সেটা মােডিফাইং ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং হয়ে থাকবে।

মাইগ্রেট ক্রিয়েটিভ আইডিয়া  

কিছু কিছু বিজ্ঞাপন থাকে খুব ক্রিয়েটিভ কিন্তু সেটা হয়তাে অন্য কোনাে দেশে বা অন্য কোনাে প্রােডাক্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সেটাকে এমন কিছু ভােক্তার জন্য উপস্থাপন করা হলাে, যাদের জন্য বিষয়টি পুরােপুরি নতুন। সেটাকে আমরা মাইগ্রেট ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং বলতে পারি। যদিও প্রকৃত প্রস্তাবে কোনাে কপি করাই ক্রিয়েটিভিটির পরিচয় নয়। কিন্তু আপনার ভােক্তারা যদি এ ধরনের কৌশল আগে না দেখে থাকেন তাহলে আপনি এটাতে নতুনের মতােই ফল পাবেন। ফলে অনেকে এ ধরনের প্রয়ােগ করে থাকেন। কারণ যেটি স্লোভেনিয়ায় হয়েছে সেটি বাংলাদেশে প্রথমবার প্রয়ােগ। করা যেতেই পারে।

আসলে সত্যি কথা বলতে কি, ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং ব্যাপারটা এতটাই ক্রিয়েটিভ হওয়া উচিত যে, এটা কোনাে নিয়ম বা ব্যাকরণ দিয়ে বাঁধা উচিত নয়। আসলে তা তা-ই। ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং শুধু একটি বই পড়ে শেখার বিষয় নয়, এটা ভেতর থেকে অনুভব করার বিষয়। আমরা কেবল জিনিসটা বােঝার জন্য কিছু প্যারামিটার ধরিয়ে দিচ্ছি। বাকিটা আপনার নিজের কাছে।

 

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top